1. [email protected] : গল্পের রাজ্যের রাজা : গল্পের রাজ্যের রাজা
সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশের কবলে বরকলে আওয়ামী রাজনীতির বেহাল পরিস্থিতি » TECH TEN
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
  • বাংলা বাংলা English English

সিন্ডিকেট ও অনুপ্রবেশের কবলে বরকলে আওয়ামী রাজনীতির বেহাল পরিস্থিতি

  • Update Time : শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের জন্য আত্মসমালোচনা আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধি অনিবার্য। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি ক্ষমতায় টানা এক যুগ পূর্ণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদপূর্তির ১৫ বছরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

এ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কোনো সামরিক বা রাজনৈতিক শক্তি এতটা সময় এভাবে নির্বিঘ্নে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। এমনকি উপমহাদেশেও কংগ্রেস ছাড়া কারও এত দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার নজির নেই।
ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ও কংগ্রেসের দীর্ঘ ক্ষমতার রেকর্ড ভঙ্গ করেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ চলছে। ক্ষমতায় থাকার এমন কৌশল শেখ হাসিনাই জানেন।

যদিও ভারতের নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সংস্কৃতির সঙ্গে আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্রপট অনেক বদলে গেছে। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংঘটিত অপরাধ তাদের রাজনীতিকেই দেউলিয়া করেনি, কোমর সোজা করে মাঠের বা ভোটের রাজনীতিতে বিএনপিকে আর দাঁড়াতে দেয়নি।
শক্তিশালী বিরোধী দলের এ শূন্যতার ভিতর দিয়েই শেখ হাসিনার সরকার যে টানা ১৫ বছরের মেয়াদ পূর্তি করে আরেক টার্ম ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে তা বলা যায়।
বিএনপি-জামায়াতের প্রতিহিংসার শাসনকালে রাষ্ট্রযন্ত্রকে অপব্যবহার করে একুশের ভয়ংকর গ্রেনেড হামলায় শেখ হাসিনাকে নেতাদেরসহ উড়িয়ে দিতে গিয়ে রাজনীতিকে বীভৎস রকমের রক্তাক্ত, বেদনার্ত ও অভিশপ্ত করেছিল। ’৯০-উত্তর গণতন্ত্রের যাত্রাপথের সমঝোতার সংস্কৃতিকে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছিল সেইদিন। সেই পাপ যারা করেছিলেন তারা দন্ডিত হলেও রাজনৈতিকভাবে বিএনপির মতো জনপ্রিয় দলে ধসই নামায়নি, পঙ্গুই করেনি, নিবেদিতপ্রাণ ইতিবাচক রাজনীতির নেতা-কর্মীদেরও চড়া মাশুল দিতে হচ্ছে। অন্যদিকে ওয়ান-ইলেভেনের জাতীয়-আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শাসনকাল সংবিধান থেকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা মুছে ফেলার সুযোগ করে দেয়।

তবে প্রভাব পড়েছে দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকা দলটির কেন্দ্র থেকে তৃনমুল নেতা কর্মীদের ওপড়।কেউ কেউ অপশক্তি ব্যবহার করে ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গিয়ে তৈরি করে নিয়েছেন নিজস্ব রাজনৈতি বলয় বা সিন্ডিকেট। কেন্দ্র, জেলা হয়ে এসব সিন্ডিকেট আজ উপজেলাগুলোতেও সর্বদা সরব ভুমিকায় অবর্তীন হতে দেখা যাচ্ছে।তেমনি এক আলোচিত সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে আজ গৃহযুদ্ধে মেতে উঠেছে পার্বত্য রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার রাজনীতি।বিএনপি কিংবা জামায়াত ছাড়াও এসব অঞ্চলে থাকা কিছু আঞ্চলিক সশস্ত্রগোষ্ঠীর প্রভাবে সর্বদাই কোণঠাসা আওয়ামী লীগে যখন একটু মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছিলো তখনই সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অদক্ষতা এবং ব্যাক্তি কেন্দ্রীক রাজনীতির প্রভাবে এবং অনুপ্রবেশকারীর একছত্র আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে টিকে থাকতে গিয়ে একসময়ের ত্যাগী আওয়ামীলীগ আজ বিলুপ্তপ্রায়।বর্তমান রাজনীতি এতটাই অবনতী হয়েছে যা ভাষারূপে প্রকাশ অযোগ্য।

বরকলের রাজনীতির সর্বশেষ খারাপ রুপটির সুত্রপাত ছিলো বিগত উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে।তৎকালীন উক্ত সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে জেলা কতৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের নিজস্ব লোকের ক্ষমতায়ণ নীতি বাচাতে গিয়ে
উক্ত নির্বাচনের উপস্থিত ভোটার ও কর্মীদের মতামত অবমুল্যায়ন করে নির্বাচন স্থগিত করে চলে আসাটাই বরকলের আওয়ামী রাজনীতিকে গৃহযুদ্ধে ধাবিত করার শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিলো।

এরপর শুরু হয় অনিয়ন্ত্রিত নোংড়া রাজনীতি।কখোনো নারী দিয়ে নৌকা প্রতিকে বরকলের ভুষনছড়া ইউনিয়নের নির্বাচিত একমাত্র বাঙ্গালী চেয়ারম্যান,বরকল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী মো মামুনর রশীদ মামুনকে ধর্ষক সাজিয়ে হেনস্ত করার অপচেষ্টা(ডিএনএ রিপোর্ট অনুযায়ী ইতিমধ্যেই উক্ত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে) কিংবা নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত হয়ে হোটেল নারীসহ গ্রেফতার হয়ে আরেক সাধারন সম্পাদক আলমগীরের দীর্ঘদিন জেলে থাকা।উক্ত সুযোগটা কাজে লাগাতে আবার মরিয়া হয়ে মাঠে নামেন ভুষনছড়া ইউনিয়ন নির্বাচনে সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচন করে হেরে গিয়ে উপজেলা সম্মেলনে একই পদে পদপ্রার্থি হয়ে পরবর্তীতে সম্মেলন বর্জন করা শাহীন আলম।সেই দৌড়ে আরো একজন ছিলেন সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নাছিড় উদ্দিন মহারাজ।
এদের মধ্যে একমাত্র শাহীন আলম ব্যাতীত অন্য তিনজনেরই আওয়ামীলীগের দুর্দিনে দলের জন্য রয়েছে অনেক ত্যাগ ও অবদান।

এ ক্ষেত্রে তৃনমুল কর্মীদের কাছে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ এগিয়ে থাকা ব্যাক্তিটি মামুনর রশীদ মামুন।বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিটি সময় সংগঠনের জন্য অকাতরে কাজ করে গেছেন তিনি।করোনা কালে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মত ঘড়ে বসে না থেকে সার্বক্ষণিক জনগনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি।করোনাকালীন সময়ে নাছিড় উদ্দিন মহারাজকেও প্রায়শই মাঠ পর্যায় দেখা গেলেও বাকিরা ছিলেন বেমালুম গায়েব।

অন্যদিগে সিন্ডিকেটের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে আলমগীর,ডা নজরুল, দুলাল,কালাম,পবিত্র চাকমা,জাফর ইকবাল,মোতালেব মুন্সি,আজিজ, রফিক পিসি,সাইফুল ইসলাম মনির,বেলাল,রাজ্জাক পিসি,দয়াল চাকমাসহ আরো কিছু ব্যাক্তি সমন্বয়ে গড়ে উঠা একটা গ্রুপ প্রতিপক্ষ গ্রুপকে নিষ্পেষিত করা অভিপ্রায় নিয়ে সরকার তথা জেলা পরিষদ কতৃক বাস্তবায়নকৃত বিভীন্ন উন্নয়ন প্রকল্প টার্গেট করে বসে।এক্ষেত্রে উঠে আসে উক্ত সম্মলনে সভাপতি পদপ্রার্থী, জেলা পরিষদের সদস্য এবং বরকল তথা সমগ্র রাঙ্গামাটির প্রথমসাড়ির ক্লীনইমেজ ব্যাক্তিত্ব সবির কুমার চাকমার নাম।পরিশেষে সবির কুমার চাকমার বিরুদ্ধে তাদের উপস্থাপনকৃত সবকটি অভিযোগই মিথ্যা প্রমানিত হয়।এ বিষয়টি নিয়ে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে পতিপক্ষ গ্রুপটির আক্রমনে মারাত্নকভাবে আহত হয়েছিলেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম ও শামসুল আলম।উক্ত প্রতিপক্ষ গ্রূপটি বর্তমানে জেলা আওয়ামীলীগের একজন উপজাতীয় লিডার কতৃক নিয়ন্ত্রীত হচ্ছে বলে জানা যায়।

এছাড়াও উক্ত সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০০৮ এর পর অনুপ্রবেশকারীরাও সংগঠনের ত্যাগী নেতা দাবী করা শুরু করেছেন।কেউ কেউ আবার সিনিয়র নেতাদের মন যুগিয়ে ভাগীয়ে নিচ্ছে বিভীন্ন পোষ্ট।

বিগত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোতে দৃষ্টি রাখলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়।বিগত ১ বছরের শুধু আধিপত্য বিস্তারের জন্যই বরকল থানা ৩০ টির মত মামলা করা হয়েছে।বর্তমানে প্রায় প্রতিটি আওয়ামী নেতার বিরুদ্ধে ৩-৪ টি করে মামলা রয়েছে।

অনেকটা ধ্বংসের খাদের কিনারাতে আজ বরকল আওয়ামী লীগ। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন করে যৌথভাবে নতুন করে মাথা চাড়া দিচ্ছে জেএসএস ও বিএনপি।

আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত দলের জন্য নিবেদিত মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য অনেকে অতীতে ভূমিকা রেখেছেন সাহসের সঙ্গে যারা আজ তমুল বঞ্চিত । কাল সংগঠন ক্ষমতায় না থাকলে যারা অপকর্ম করছেন তারা দেশ ছেড়ে পালাবেন আর বিপর্যয়টা অগণিত নেতা-কর্মীর কাঁধে ফেলবেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের যে শক্তি সমর্থন দিচ্ছে তারা বিপদে পড়বেন। দলের নেতা-কর্মীদের সুসংগঠিত ঐক্যবদ্ধ করে মানুষের হৃদয় জয় করে চলতে হলে আদর্শিক গণমুখী নেতৃত্বের বিকল্প নেই। ভোগবাদী লোভ-লালসায় রাজনৈতিক পদবিকে ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ-বাণিজ্য কামানোর ধারায় যারা ডুবেছে সে মাঠের যত বড় নেতাই হোক তার বিরুদ্ধে নেতৃবৃন্দদের কঠোর হতে হবে। মাঠের বদদের সরিয়ে দল সাজাতে না পারলে শেখ হাসিনার উন্নয়নের ইতিহাস লেখা থাকলেও দলকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে। এ ছাড়া দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার সুবাদে সুবিধাবাদীদের যে ভিড়, রাতারাতি খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ছাড়া সবাই যেভাবে বড় আওয়ামী লীগ সব শ্রেণি-পেশায় দৃশ্যমান এটা ভয়ংকর।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Tech Ten
Theme Customized By BreakingNews